তিন আসনে ৭৯২ ভোট, ত্রয়োদশ নির্বাচনে বড় ধাক্কায় এলডিপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যর্থ হয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। কর্নেল (অব.) অলি আহমদ–এর নেতৃত্বাধীন দলটি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের অংশ হিসেবে সাতটি আসনে নির্বাচন করলেও কোনো আসনেই জয় পায়নি। তিনটি আসনে দলটির প্রার্থীরা মোটে ৭৯২ ভোট পেয়েছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে এলডিপি প্রার্থী এয়াকুব আলী পেয়েছেন ১১৮ ভোট। ভোলা-২ (দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন) আসনে মোকফার উদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ৩৮১ ভোট এবং ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে মাহমুদ মোরশেদ পেয়েছেন ২৯৩ ভোট। এই তিন আসনে মোট ভোটসংখ্যা দাঁড়ায় ৭৯২।
এবারের নির্বাচনে এলডিপি মোট সাতটি আসনে প্রার্থী দিয়ে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৩ ভোট পেয়েছে। তুলনামূলকভাবে এটি ২০০৮ সালের নির্বাচনের চেয়ে বেশি হলেও আসনভিত্তিক ফলাফলে দলটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে পারেনি। ২০০৮ সালে এলডিপি ১৮টি আসনে প্রার্থী দিয়ে এক লাখ ৯১ হাজার ৬৭৯ ভোট পেয়েছিল এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে জয়ী হয়েছিলেন অলি আহমদ নিজেই। এবার সেই চন্দনাইশ আসনেই এলডিপি বড় ধাক্কা খেয়েছে। ওই আসনে এলডিপির প্রার্থী ও অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুক পরাজিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর প্রার্থী জসিম উদ্দিনের কাছে। এ পরাজয়কে কেন্দ্র করে দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দলটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, যিনি পরে এলডিপি ছেড়ে বিএলডিপি গঠন করেন এবং সর্বশেষ বিএনপিতে যোগ দেন, গণমাধ্যমকে বলেন-এলডিপির জন্য এবারের নির্বাচনের ফল রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। তাঁর মতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে থাকলে এলডিপির পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
অলি আহমদের রাজনৈতিক জীবনে চন্দনাইশ এলাকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, যা তাঁকে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় করে তোলে। তবে এবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হওয়াকে ভালোভাবে নেননি এলাকার একটি অংশের ভোটার।
এদিকে, ছেলে ওমর ফারুকের পরাজয় নিয়ে অলি আহমদ দাবি করেছেন, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। অপরদিকে, ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এলডিপি ভবিষ্যতেও জামায়াত জোটেই থাকবে এবং নির্বাচনে পরাজয় নিয়ে তারা আইনি ও রাজনৈতিক দিক বিবেচনা করছেন।