এমন একটি দিনেরই অপেক্ষায় ছিল জাতি-কারও জন্য ১০০ বছর, কারও জন্য ৫৫ বছর, আবার কারও জন্য ১৮ বছর। অনেকেই জীবনসায়াহ্নে এই দিনের সাক্ষী হয়েছেন। দীর্ঘদিনের কষ্ট, চোখের পানি ও মানসিক চাপ শেষে দেশবাসীর মুখে হাসি ফুটেছে। গণতন্ত্র জিতে গেছে, হারানো অধিকার ফিরেছে। একাত্তর ও চব্বিশের স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার সুযোগ এসেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। শপথ কেবল কাগজে লেখা নয়, এটি জনগণকে দেওয়া একটি পবিত্র ওয়াদা। তার নেতৃত্বে জনমুখী সরকার গঠনের প্রত্যাশা রয়েছে।
চব্বিশের অভ্যুত্থান পরবর্তী ১৮ মাসের মধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি ২১২ আসনে ভূমিধস জয় লাভ করে, আর জামায়াতে ইসলামী ৭৭ আসনে জয়ী হয়। দেশের মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করেছে সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে নির্বাচন সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হবে এবং সেনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করবে না।
তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ দেশে ফেরার দিন, লাখ লাখ মানুষ বিমানবন্দর ও বিশ্বরোডে উপস্থিত হয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ নিরাপত্তা ও সেনা উপস্থিতি জনতার প্রতি বার্তা দিয়েছিল-আমাদের সন্তানকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। এরপর ৩১ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় দেশে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি এই ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছে।
নির্বাচনে জয়লাভের পর দায়িত্ব এখন তারেক রহমানের। দেশের মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা এবং ইতিবাচক রাজনীতি চায়। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি বিরোধী দল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া সংসদ সদস্যরা ঘোষণা দিয়েছেন যে তারা ডিউটি ফ্রি গাড়ি বা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না।
দেশবাসীর আশা এখন-যদি তারেক রহমান সফল হন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদার আদর্শ বেঁচে থাকবে এবং বিএনপির রাজনীতি ইতিবাচক পথে এগোবে।