বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা: এআই প্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রিত রাজধানীর সবচেয়ে নিরাপদ নগরপাড়া
রাজধানী ঢাকায় পরিকল্পিত, নিরাপদ ও আধুনিক আবাসনের কথা উঠলেই যে এলাকার নাম সবার আগে আসে, তা হলো বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা। কোলাহলমুখর শহরের মাঝেও এই এলাকা পরিচিত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, উন্নত নাগরিক সুবিধা এবং সর্বোপরি শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা শুধু একটি আবাসন প্রকল্প নয়-এটি পরিকল্পিত নগর জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল।
প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তার বলয়
এলাকাটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো বহুমাত্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রতিটি প্রবেশপথে রয়েছে কড়া নিয়ন্ত্রণ, চেকপোস্ট ও সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকা প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী। এর পাশাপাশি পুরো এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা।
নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, কয়েক স্তরের শতাধিক ক্যামেরা দিয়ে প্রতিটি সড়ক, গলি ও চলাচলের পথ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব ক্যামেরা চলন্ত গাড়ির নম্বর প্লেট পর্যন্ত শনাক্ত করতে সক্ষম। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন চিহ্নিত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কন্ট্রোল রুমে সতর্ক সংকেত পৌঁছে যায়।
১৪টি গেটওয়ে, ২৪ ঘণ্টার নজরদারি
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় রয়েছে মোট ১৪টি গেটওয়ে। প্রতিটি গেটেই স্থায়ী চেকপোস্ট এবং নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োজিত। দিন-রাত নির্বিশেষে যানবাহন ও প্রবেশকারীদের ওপর নজরদারি করা হয়। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বহুস্তরীয় গেট সিস্টেমই অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ কার্যত অসম্ভব করে তুলেছে।
নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস ইউনিট
নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস ইউনিট। যেকোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারি ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই বসুন্ধরার টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কারণে এ পর্যন্ত এলাকায় বড় ধরনের কোনো অগ্নি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেনি।
সুসংগঠিত নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী
এলাকাটিতে রয়েছে বড় আকারের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী, যারা তিন শিফটে ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম চালান। মোটরসাইকেল ও গাড়িতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে বাসিন্দাদের ফোন পেলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান তারা।নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট আবাসন, যাতায়াত ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি শিফটে একজন ইনচার্জ দায়িত্ব পালন করেন এবং নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা বিভাগের প্রধানের কাছে প্রতিবেদন দেন।
নারী ও শিশুবান্ধব পরিবেশ
কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার ফলে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা নারী ও শিশুবান্ধব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বাসিন্দারা জানান, নারী ও শিশুরা রাতের বেলাতেও নির্বিঘ্নে রাস্তায় হাঁটাচলা করতে পারেন। কোনো ধরনের উত্যক্ত বা হয়রানির ঘটনা এখানে প্রায় নেই বললেই চলে।
অপরাধ দমনে এআই প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার
চুরি, ছিনতাই, মাস্তানি কিংবা চাঁদাবাজির মতো অপরাধ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রায় শূন্যের কোঠায়। নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধী শনাক্ত করা হয়।একবার শনাক্ত হওয়া অপরাধীর ছবি ও তথ্য নিরাপত্তা ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে। ভবিষ্যতে তিনি এলাকায় প্রবেশ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা চলে আসে।
নিয়ন্ত্রিত যানবাহন ও জনচলাচল
এ এলাকায় নেই অবৈধ অটোরিকশা, হকার বা ভিক্ষুকের উপদ্রব। বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অনুমোদিত নির্দিষ্টসংখ্যক প্যাডলচালিত রিকশা চলাচল করে। প্রতিটি রিকশার রয়েছে নির্দিষ্ট নম্বর ও অ্যাপ্রন, ফলে বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই।
থানা স্থাপনের উদ্যোগ
বর্তমানে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ডিএমপির ভাটারা, বাড্ডা ও খিলক্ষেত থানার আওতাভুক্ত। তবে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই এলাকার জন্য আলাদা থানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাসিন্দারা মনে করেন, আলাদা থানা হলে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং এলাকার গুরুত্ব বাড়বে।
কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের মূল্যায়ন
বসুন্ধরা গ্রুপ-এর সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান মেজর (অব.) মো. মাহবুবুল ওয়াদুদ বলেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অপরাধ করে কেউ পার পায় না বলেই এখানে অপরাধের হার অত্যন্ত কম।ভাটারা থানার কর্মকর্তারা জানান, বসুন্ধরা গ্রুপের নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি পুলিশের নিয়মিত টহল কার্যক্রমও এলাকাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
নিরাপদ নগর জীবনের এক অনন্য উদাহরণ
পরিকল্পিত অবকাঠামো, আধুনিক প্রযুক্তি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা রাজধানীর নিরাপদ আবাসনের একটি মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে-যেখানে বসবাস মানেই নিশ্চিন্ত জীবন।