স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৩০ আসনে শক্ত অবস্থান গড়তে চায় এনসিপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের হয়ে ৩০টি আসনে অংশ নিয়েছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ফলাফল হিসেবে দলটি ছয়টিতে জয় পায়। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের প্রভাব ও সাংগঠনিক শক্তি আরও দৃঢ় করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দলটি। বিশেষ করে যেসব সংসদীয় আসনে তাদের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছে, সেসব এলাকায় সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা এখন নীতি-প্রধান অগ্রাধিকার।
স্থানীয় সরকারে প্রার্থী পরিকল্পনা
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কে কোথায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন-এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেন, “আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বসার সুযোগ পাইনি। এখন আমরা সাংগঠনিক জায়গা থেকে নিজেদের শক্তিশালী করার কাজের ওপর জোর দিচ্ছি। যেসব ৩০টি আসনে আমরা সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, সেখানে আমাদের ভিত্তি শক্ত করার চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও বলেন, “এই ৩০টি আসনে সংগঠন তৈরি হচ্ছে, নানা ধরনের ক্যাম্পেইন চলছে। এর বাইরে সারাদেশেরও কিছু নির্বাচনী এলাকা আমরা লক্ষ্য করেছি। মূলত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ওপর আমাদের কর্মসূচি ফোকাস করা হবে।”
ঢাকা-সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনার উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায়, আগামী মেয়র নির্বাচন এবং সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে ধীরে ধীরে গুঞ্জন ছড়াচ্ছে যে, ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি এ পদে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
রাজনৈতিক কৌশল ও সংগঠন
এনসিপি মনে করছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলাই দলের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল। সংসদীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক উপস্থিতি এই কৌশলকে সহায়তা করবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংগঠন দৃঢ় করলে, শহরে ও গ্রামে ভোটের ভিত্তি আরও মজবুত হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চট্টগ্রাম বাদে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের গুরুত্ব ও প্রার্থীর রাজনীতিক কৌশলকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে দলীয় অঙ্গন ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এখন থেকে গড়ে তুলছেন সম্ভাব্য প্রার্থী ও কৌশল।