রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার ঘিরে বিতর্ক: সাংবাদিক হায়দার আলীকে টার্গেট করার অভিযোগ
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর একান্ত সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে দৈনিক কালের কণ্ঠ। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী ও বিশেষ প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন। দুই পর্বে প্রকাশিত এ সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও সেই সময়কার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন সময়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
রাষ্ট্রপতির এ ‘সাহসী সাক্ষাৎকার’ প্রকাশের পর তা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমও কালের কণ্ঠের বরাত দিয়ে সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রকাশ করে। তবে সাক্ষাৎকার প্রকাশের পরপরই একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলীকে ঘিরে সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা বিষয় প্রকাশ পাওয়ায় হায়দার আলীকে ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট ও ‘ট্যাগিং’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ প্রেক্ষাপটে লেখক ও গবেষক নাদিম মাহমুদ প্রশ্ন তুলেছেন-রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার নেওয়াটাই কি সাংবাদিক হায়দার আলীর অপরাধ? বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ লেখায় তিনি বলেন, ট্যাগিংয়ের রাজনীতি পরিহার করে পেশাদার সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করতে দেওয়া উচিত। নাদিম মাহমুদ তার লেখায় স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ শিরোনামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনসহ একাধিক সিরিজ রিপোর্ট দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এসব প্রতিবেদনের মাধ্যমে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি ও অনিয়মের নানা চিত্র জনসমক্ষে আসে, যার পেছনে হায়দার আলী ও তার সহকর্মীদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিক পাচার, বিসিএসআইআরের পিএইচডি জালিয়াতি, গাজীপুরের বন দখল, প্রভাবশালী এমপি ও শিল্পপতিদের দুর্নীতি-এমন বহু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে হায়দার আলী দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন।
নাদিম মাহমুদের মতে, একজন সাংবাদিকের কাজ হলো প্রশ্ন করা এবং সাক্ষাৎদাতার বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা। রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার নেওয়ার কারণে একজন সাংবাদিককে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত। তিনি বলেন, ব্যক্তি হায়দার আলীর রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে, কিন্তু তার সাংবাদিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আগে প্রমাণসহ পেশাগত অপেশাদারিত্ব দেখাতে হবে।
লেখক আরও বলেন, ট্যাগিং ও দ্বিচারিতার সংস্কৃতির কারণে অনেক সাংবাদিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থেকে সরে যাচ্ছেন, কেউ কেউ পেশাই ছেড়ে দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বকে সম্মান করার আহ্বান জানান তিনি।