ভিসি ড. নকীবের ১৮ মাসের ‘ভয়ের শাসন’-অপসারণের দাবি জোরালো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীবকে অপসারণ করা হবে নাকি তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন-এমন গুঞ্জনে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস। নতুন সরকার গঠনের পর বিএনপিঘনিষ্ঠ শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ তার অপসারণের দাবি তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, গত ১৮ মাস ধরে তিনি ‘মব পরিস্থিতি’ জিইয়ে রেখে ভয়ের পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন এবং বিভিন্ন নিয়োগে অনিয়ম করেছেন।
শিক্ষকদের একাংশের দাবি, বিশেষ একটি রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের প্রশাসন ও শিক্ষক নিয়োগে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাকসুর বিতর্কিত জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। ভিন্নমত পোষণকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি বিরূপ আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও সামনে এসেছে। গত ২১ ডিসেম্বর কয়েকজন ডিনের পদত্যাগপত্র ইস্যু ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন একাধিক শিক্ষক।
রাবি জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পিতভাবে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছে। তার দাবি, অধিকাংশ নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এদিকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক সংকট থাকায় অ্যাডহক ভিত্তিতে কয়েকজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিপুলসংখ্যক নিয়োগের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। নিয়োগের পর একাডেমিক কার্যক্রম সচল থাকলেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও উপাচার্য সাড়া দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, তিনি অসুস্থ থাকায় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন না।