১৬ চীনা সামরিক বিমানের ‘ইরান সফর’-রহস্য নাকি গুজব?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি-গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টায় নাকি ১৬টি চীনা ওয়াই-২০ সামরিক কার্গো বিমান ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। খবরটি দ্রুতই প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও কৌশলগত পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি কাড়ে। একটি দাবিতে বলা হয়, বেসামরিক রাডার এড়িয়ে যেতে বিমানগুলো তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেছিল। নেটিজেনদের একাংশের ধারণা, এসব বিমানে করে ইরানে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা উন্নত জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করা হতে পারে-যা যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ বা নৌ-অভিযানের সক্ষমতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কেউ কেউ এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চীনের ‘কৌশলগত বার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনা সত্য হলে তা কেবল অস্ত্র সরবরাহের বিষয় নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করবে। আধুনিক যুদ্ধে ইলেকট্রনিক সক্ষমতা নির্ধারণ করে দেয়-কে নজরদারি করবে, কে যোগাযোগ বজায় রাখবে এবং শেষ পর্যন্ত কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে রণক্ষেত্র। তবে দাবিগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম Flightradar24-এ এমন কোনো অস্বাভাবিক সামরিক ফ্লাইটের ধারাবাহিক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। সামরিক বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ১৬টি ভারী কার্গো বিমানের মতো বড় অভিযানে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করা কঠিন। স্যাটেলাইট নজরদারি ও অন্যান্য প্রযুক্তির যুগে এমন বড় মাপের তৎপরতা অদৃশ্য থাকার সম্ভাবনা কম।
বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে চীন, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেয়েছে-এটি বাস্তবতা। তবে এই নির্দিষ্ট দাবিটি এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সূত্র, স্যাটেলাইট চিত্র বা নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সমর্থিত হয়নি। চীন কিংবা ইরানের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি মেলেনি।
বিশ্লেষকদের অভিমত, নির্ভরযোগ্য প্রমাণের অভাবে ১৬টি বিমানের এই আলোচিত ঘটনাকে আপাতত ‘সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক গুজব’ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময়ে এ ধরনের তথ্য-যুদ্ধ বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা নতুন নয় বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।