ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা: বিশ্ববাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাজনিত হুমকি এ হামলার মধ্য দিয়ে সমাধান হবে এবং ইরানের জনগণের সামনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে।
হামলার প্রভাব ইতিমধ্যে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোয় পড়েছে। ইরান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি এবং হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়। সংঘাত তীব্র হলে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়াতে পারে। রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলার হয়েছে, চলতি বছরে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাত সীমিত হলেও দাম ৮০ ডলার স্পর্শ করতে পারে এবং সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত হলে ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক বাজারে চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শেয়ার ও মুদ্রা বাজারও প্রভাবিত হতে পারে। ডলার তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হবে, তবে ইয়েন ও সুইস ফ্রাঁ নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে টিকে থাকতে পারে। ইসরায়েলের শেকেল সাময়িক দুর্বল হলেও দ্রুত পুনরুদ্ধার হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয় এবং আঞ্চলিক মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠী এতে যুক্ত হয়, তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।