নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও সরকারি হিসেবে ৭৬ শতাংশ অগ্রগতির দাবি করা হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতারা বলছেন, বাস্তবে অর্ধেকের মতো কাজ হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন হাওরে ৭১০টি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরুর নির্দেশনা থাকলেও অনেক প্রকল্পে বাস্তবে কাজ শুরু হয়েছে দেরিতে; কোনো কোনো প্রকল্পে এখনো কাজই শুরু হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
কাজের ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়ভাবে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি বাঁধ পরিদর্শনে এসে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে পাউবো।
২০১৭ সালে আগাম বন্যায় হাওরের বোরো ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ার পর কৃষকদের দাবির প্রেক্ষাপটে ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা কমিটি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পিআইসি অনুমোদনের বিধান রয়েছে।
তবে নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষক ও সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের পিআইসিতে রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে অক্ষত বা কম ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধেও বিপুল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। আবার বড় প্রকল্পে তুলনামূলক কম বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
শাল্লা, দিরাই ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি হাওর ঘুরে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অনেক প্রকল্পে মাটির কাজ অসম্পূর্ণ, কোথাও দুর্বাঘাস লাগানো হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে হাওরে জমি নেই—এমন ব্যক্তিদেরও পিআইসিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাওর রক্ষা আন্দোলনের নেতারা বলছেন, প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ না করা, বরাদ্দ বণ্টনে স্বচ্ছতার অভাব এবং পিআইসি গঠনে অনিয়মের কারণেই কাজ বিলম্বিত হয়েছে। তারা এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, কাজের অগ্রগতি ৭৬ শতাংশ। কিছু ক্লোজার কাজ বাকি আছে। সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, সময়মতো ও মানসম্মতভাবে বাঁধের কাজ শেষ না হলে আগাম ঢল বা বন্যায় হাওরের বোরো ফসল আবারও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।