অফিস সময় শুরু হওয়ার পরও তালাবদ্ধ ছিল ভূমি অফিস। এমন অনিয়ম ধরা পড়ার পর সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি কার্যালয়ের তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়হান কবির, জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ। তিনি জানান, বুধবার রাতেই অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) সকালে কাউকে অবহিত না করে আকস্মিকভাবে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পরিদর্শনের সময় তিনি দেখতে পান, সরকারি নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও অফিস তালাবদ্ধ এবং কোনো কর্মকর্তা–কর্মচারী উপস্থিত নেই।
জানা যায়, ওই ভূমি অফিসটি অবস্থিত সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিস, যা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন–এর ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ মিনিট পর প্রতিমন্ত্রী সেখানে পৌঁছান। কিন্তু তখনও কার্যালয় বন্ধ ছিল।
প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর এক ব্যক্তি এসে অফিসের তালা খুলে দিলে প্রতিমন্ত্রী ভেতরে প্রবেশ করেন। তবুও তখনো কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।
ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন, উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক এবং অফিস সহকারী জান্নাতী। তাদের মধ্যে নাসির উদ্দিন ও ওমর ফারুককে আড়াইহাজার উপজেলায় এবং জান্নাতীকে বন্দর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ঘটনাটিকে অত্যন্ত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে এবং জনগণের সেবায় বিঘ্ন ঘটালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা সরকারের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সরকারি দপ্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি বা দায়িত্বহীনতার কোনো সুযোগ নেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণের সেবায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।