বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১২ নির্দেশনা
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১২ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে এসব নির্দেশনা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ বিষয়ে জরুরি পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ। পরিপত্রে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্যেই নতুন নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে।
সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খুলে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান আলোর অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইট ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
অফিস চলাকালীন প্রয়োজন ছাড়া লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অন্তত ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখার কথা বলা হয়েছে।এ ছাড়া অফিস কক্ষ ত্যাগের সময় সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা, করিডর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমে অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ রাখা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, অফিস সময় শেষে লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ও এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি গাড়ির ব্যবহার সীমিত করা, জ্বালানি তেল ও গ্যাস ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হওয়া এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকার আশা করছে, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।