আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ বাড়ছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কের কুমিল্লা অংশের প্রায় ১০৪ কিলোমিটার এলাকায় ঝুঁকি বেশি বলে দাবি করছেন যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। ফলে ঈদযাত্রা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দাউদকান্দি, চান্দিনা, আদর্শ সদর, বুড়িচং, চৌদ্দগ্রাম ও সদর দক্ষিণ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যার পর সংঘবদ্ধ চক্র প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস ব্যবহার করে যাত্রী পরিবহনের ভান করে টার্গেট করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম জানান, কাঁচপুর থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত মহাসড়কে প্রায় এক হাজার সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্যামেরা বর্তমানে অকার্যকর থাকায় নজরদারিতে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
অপহরণের শিকার হয়ে ফিরে আসা কয়েকজন যাত্রীর দাবি, তাদের ভয় দেখিয়ে অভিযোগ না করতে বলা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গেলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এ কারণে অনেকে মামলা করতে আগ্রহ হারান। চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন যাত্রীদের গাড়িতে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলা হয়। এরপর শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া হয়।
সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক সোহেল এমন ঘটনার শিকার হন। ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকাকালে একটি প্রাইভেটকারে ওঠেন তিনি। পরে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং প্রায় ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ থানায় মামলা হয়েছে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান প্রকৌশলী মাসুম রানা। আলেখারচর বিশ্বরোড থেকে চট্টগ্রামগামী একটি প্রাইভেটকারে ওঠার পর তাকে বেঁধে মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাকে চৌদ্দগ্রাম এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মহাসড়কের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দাউদকান্দি আমিরাবাদ হাইওয়ে থানার ইনচার্জ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দিনে দুটি ও রাতে চারটি টহল টিম দায়িত্ব পালন করছে। সন্দেহভাজন যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি চলছে। হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, কুমিল্লা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কপথে প্রায় ৭০০ সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। ঈদকে সামনে রেখে অতিরিক্ত আরও ৩০০ সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তবে যাত্রীদের আশঙ্কা, কার্যকর নজরদারি ও টহল বাড়ানো না হলে ঈদযাত্রায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তারা রাতের বেলায় মোবাইল টহল জোরদার ও সন্দেহভাজন গাড়ির ওপর কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।