আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি, আলোচনা ও অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে। দিবসটির মূল লক্ষ্য নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, নারী-পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা।
পরিবার থেকে রাষ্ট্রপর্যন্ত—অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রশাসন ও উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আজ সুস্পষ্ট। তবুও বাস্তবতায় দেখা যায়, বৈষম্য, সহিংসতা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এখনও বহু নারীর অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ধর্ষণ, নির্যাতন ও হয়রানির মতো অপরাধ বন্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি প্রতি বছরই নতুন করে উচ্চারিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নারী দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাস্তব জীবনে পরিবর্তন আনাই হওয়া উচিত এ দিনের মূল অর্জন। নারীর প্রাপ্য সম্মান, নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
সমতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে এমন এক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেখানে নারী কেবল প্রতীকী উপস্থিতি নয়, বরং পূর্ণ অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন।
এদিকে, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও দিবসটি ঘিরে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মহিলা ঐক্য পরিষদ প্রতিবছরের মতো এবারও অনলাইন ও অফলাইন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করছে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত, শোষিত ও অবহেলিত নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনি সহায়তা প্রদান এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।
তাদের আয়োজনে রয়েছে আলোচনা সভা, প্রান্তিক নারীদের সমস্যা সংক্রান্ত সম্ভাব্য সমাধান এর মতবিনিময় সভা। সংগঠনের নেতারা বলেন, নারীর অধিকার রক্ষায় শুধু বক্তব্য নয়, বাস্তবমুখী কার্যক্রম ও সামাজিক সংহতি প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস তাই হোক প্রতিশ্রুতি নবায়নের দিন-নারীর কাজের স্বীকৃতি, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকারে।