মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করতে তৈরি স্মার্ট ডিভাইস এখন উল্টো গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেটার তৈরি ‘রে-ব্যান মেটা’ স্মার্ট চশমা নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ-ব্যবহারকারীর অজান্তেই ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ ও তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর এই চশমা ব্যবহারকারীর দেখা দৃশ্য ও আশপাশের কিছু কার্যক্রম ডিভাইসে সংরক্ষণ করে। ফলে পোশাক পরিবর্তন, শোয়ার ঘর কিংবা ব্যক্তিগত আলাপচারিতার মতো সংবেদনশীল মুহূর্তও রেকর্ড হয়ে যেতে পারে।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, ডেটা প্রসেসিংয়ের সঙ্গে যুক্ত তৃতীয় পক্ষের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মী দূর থেকে এসব ভিডিও সংগ্রহ করে ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন-এমন অভিযোগ উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে প্রযুক্তি অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্মার্ট চশমায় থাকা উন্নত ক্যামেরা, সেন্সর ও মাইক্রোফোন ব্যবহারকারীর দৃশ্য ও শব্দ উভয়ই ধারণ করতে সক্ষম। ফলে-
অনলাইনে কেনাকাটা বা ব্যাংকিংয়ের সময় সংবেদনশীল আর্থিক তথ্য ক্যামেরায় ধরা পড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে কারও পরিচয় শনাক্তের ঝুঁকি থাকতে পারে। ব্যবহারকারীর চলাফেরা, আলাপ ও দৃষ্টিপাতের দিক সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হতে পারে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এ ধরনের প্রযুক্তি সঠিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার ঘটতে পারে।মেটার প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা মেটা পূর্বে দাবি করেছিল, তাদের স্মার্ট ডিভাইসে ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষায় একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যালগরিদম বা ডেটা ব্যবস্থাপনায় কোনো দুর্বলতা থাকলে সাইবার অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে।
গত বছরে বিপুলসংখ্যক এআই চশমা বাজারজাত হওয়ায় গোপনীয়তা সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের পরামর্শ-এ ধরনের স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের সময় ডেটা শেয়ারিং সীমিত রাখা, অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ করা এবং নিয়মিত প্রাইভেসি সেটিংস পর্যালোচনা করা উচিত। পাশাপাশি সংবেদনশীল পরিবেশে স্মার্ট ক্যামেরা ডিভাইস ব্যবহার থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।