ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে তেহরানই।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু শুধু সৌদি আরব নয়; বরং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ আরব ও ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তাও এতে হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনার মতো বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সৌদি আরব মনে করছে, এসব কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে।
এদিকে ইরানের দেওয়া অভিযোগও নাকচ করেছে রিয়াদ। তেহরানের দাবি ছিল, সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, সংশ্লিষ্ট বিমানগুলো মূলত সৌদি আরব এবং গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশগুলোর আকাশসীমা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে এসব টহল পরিচালনা করা হয়।
বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান যদি এ ধরনের হামলা চালিয়ে যায়, তবে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং দুই দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর আগে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, গত শনিবার একটি বিমানঘাঁটির দিকে নিক্ষেপ করা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে একটি বড় তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার চেষ্টাও নস্যাৎ করা হয়েছে।
এ সপ্তাহেই সৌদি আরব জানায়, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রাস তানুরা তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে অন্তত দুটি ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের পর সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এসব ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে এমন সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।