ফেব্রুয়ারিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল সাতক্ষীরা ও নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) অনুসারে রিখটার স্কেলে তীব্রতা ছিল ৫.৫, তবে ইউরোপিয়ান ইএমএসসি ৫.৭ রেকর্ড করেছে। স্থায়িত্ব ছিল ২৬ সেকেন্ড। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমন তীব্র কম্পন তারা আগে কখনও দেখেননি।
গত ১৩ মাসে দেশে মোট ৩২টি ছোট-বড় ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত ২৫ দিনে তিনবার ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, যা সাধারণত কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ধরা হয়। জানুয়ারি মাসেও কয়েকটি মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে সারাদেশে অন্তত ১০ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অবস্থান ভারতীয়, ইউরেশীয় ও মিয়ানমারের টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে হওয়ায় দেশটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘনবসতি, পুরোনো অবকাঠামো এবং দুর্বল বিল্ডিং কোডের প্রয়োগ এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়েছে। ইতিহাসে এই অঞ্চলে ১৮৬৯ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে পাঁচটি বড় ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কম মাত্রার কম্পন বেড়ে যাওয়ায় দেশের রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য শহরের মানুষ বিশেষ সতর্ক হওয়ার পরামর্শ পাচ্ছেন।
ভূমিকম্পের প্রভাব মোকাবিলার জন্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ঘরবাড়ি ভূমিকম্প প্রতিরোধক কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। দুর্বল ভবনগুলোর ক্ষেত্রে রেট্রোফিটিং বা পুনঃনির্মাণ জরুরি। এছাড়া, পরিবারের সদস্যদের টর্চ, ব্যাটারি, জুতা ও জরুরি সরঞ্জাম পাশে রাখা, গ্যাস ও বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ রাখা, আফটার শক বা ফোরশকের সময় সতর্ক থাকা জরুরি। ধ্বংসস্তূপে আটকে গেলে নাক-মুখ ঢেকে রাখা, শব্দ ব্যবহার করে সহায়তার সংকেত দেওয়া, ম্যাচ বা আগুন ব্যবহার না করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস সম্ভব নয়। তাই প্রস্তুতি এবং সচেতনতা ছাড়া দেশকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা অসম্ভব। বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি ও গতিশীলতা বিবেচনায় এখনই জাতীয় নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ ও দুর্বল স্থাপনাসমূহ চিহ্নিত করা অপরিহার্য।
সাম্প্রতিক ভূমিকম্প দেশের জন্য শুধু প্রাকৃতিক ঘটনার রেকর্ড নয়, বরং একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা যে, বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এখনই সময়।