দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে মুখস্থনির্ভরতার সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা এবং বাস্তব দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষা খাতে নানা সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীতে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জানানো হয়, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার বিকাশ ঘটানো প্রয়োজন। এ কারণে পাঠ্যক্রমে বাস্তব দক্ষতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্পখাতের সমন্বয়ে যৌথ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সভায় বক্তারা জানান, দেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগাতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিপুল কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জীবনমুখী, কর্মমুখী ও উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে মাধ্যমিক পর্যায় থেকে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়। সভায় আরও জানানো হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা, পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল চালু এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।