দুর্নীতির একটি মামলায় বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুসহ ১৬ জনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত চলমান থাকায় তাদের দেশত্যাগে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।
আদালতের আদেশে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন- বেসিক ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম সাজেদুর রহমান, সাবেক এমডি ও সিইও কাজী ফখরুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুস সোবহান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব শাহ আলম ভূইয়া এবং সাবেক পরিচালক জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, ফখরুল ইসলাম, শুভাশিষ বোস, নিলুফার আহমেদ, ড. কাজী আক্তার হোসাইন ও আনোয়ারুল ইসলাম।
এ ছাড়া গুলশান শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক সিপার আহমেদ, তাহমিনা ডেনিম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসির আহমেদ খান, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কামাল জামান মোল্লা, পরিচালক কাজী রিজওয়ানা মোমিনুল হক এবং চিফ সার্ভেয়ার জসিম উদ্দিন চৌধুরীকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহ জালাল আদালতে আবেদন করে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণে বাধা দেওয়া প্রয়োজন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, বেসিক ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন।
দুদক সূত্র জানায়, মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১২ জুন অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে পরবর্তীতে বিশেষ জজ আদালত-১ কিছু পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য আবার দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠায়। বর্তমানে মামলার অতিরিক্ত তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অভিযুক্তদের কেউ কেউ দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন-এমন তথ্য পাওয়ায় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে আদালতের কাছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। শুনানি শেষে আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, এ মামলার এজাহারভুক্ত আরেক আসামি কোরবান আলী ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।