শিক্ষায় দক্ষতা ও কর্মসংস্থানমুখী সংস্কারের উদ্যোগ
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী ও সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় জানানো হয়, দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এবং ভবিষ্যতের লংজেভিটি ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সুস্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় আরও বলা হয়, জীবনমুখী, কর্মমুখী ও উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে শিক্ষাখাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য মাধ্যমিক পর্যায় থেকে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষায় সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা, পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল চালু এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় শিক্ষায় বৈষম্য দূরীকরণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা, সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং ডিজিটাল এডু-আইডি চালুর বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক করতে আইটি, বিজ্ঞান ও পেশাভিত্তিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে এনে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও বাস্তব দক্ষতা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।” তিনি আরও জানান, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের যৌথ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার গ্রহণ করা হবে।
সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।