সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ও ছবিতে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের পাহাড়ের গুহার ভিতরে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখানো হয়েছে, অনেক কর্মী ব্যস্তভাবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুতির কাজে যুক্ত।
ফেসবুক পেজ Sports By Arif থেকে ৯ মার্চ সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। প্রকাশের পর এক ঘণ্টারও কম সময়ে ভিডিওটি ১২ লাখ বার দেখা হয়, রিয়েকশন পড়ে ১৪ হাজার, ৯৪টি মন্তব্য এবং প্রায় ১,৯০০ বার শেয়ার করা হয়। ভিডিওতে একজন বলছেন, “গুহার ভিতরে লক্ষাধিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হচ্ছে। যুদ্ধ কয়েক দিনে শেষ হবে না, এটি মাসের পর মাস চলবে।”
তবে গণমাধ্যম ও ফ্যাক্টচেক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিডিওতে প্রদর্শিত স্থান বাস্তব কোনো সামরিক কারখানার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়। গুহার দেয়াল, লাইট, পতাকা টানার ধরন এবং কর্মীদের আচরণ থেকে বোঝা যায় এটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র নয়। ভিডিওতে থাকা কর্মীদের মুখাবয়ব ও চুলের কাটিং অত্যন্ত নিখুঁত, যা এআই দ্বারা তৈরি কন্টেন্টের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। এছাড়া কলম থেকে কোনো কালিও বের হচ্ছে না এবং ভিডিওর গতিও স্বাভাবিক নয়।
ভাইরাল ভিডিও ও ছবির কোনো নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। উৎসও স্পষ্ট নয়।
ফ্যাক্টচেকে Hive Moderation প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।
সিদ্ধান্ত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ‘ইরানের গুহায় ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা’ দাবি সঠিক নয়। ভিডিও ও ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি, বাস্তব কোনো সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।