দলীয় নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কাছে একটি চিঠি পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে।
তবে ওই চিঠিতে এমন কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়, যা দলীয় নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। এ কারণেই গত ২ মার্চ তাকে আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে জামায়াত আমিরের স্বাক্ষর ছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।
চিঠিতে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে তার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া প্রস্তাব করা হয়েছিল যে, বিরোধী দলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে তা একটি নতুন উদ্যোগ হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের অবস্থান সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অনুরোধ জানানো হয়, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে। বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
জামায়াতের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সংশোধনের নীতি অনুসরণ করা হয়। আলোচিত ঘটনাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।