ফ্রান্স আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেন-নোয়েল বারো মঙ্গলবার ফ্রান্স টু টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সীমা অতিক্রম করেছে এবং এর স্পষ্ট কৌশলগত লক্ষ্যও দেখা যায় না।
বারো বলেন, “আমরা এই যুদ্ধকে সমর্থন করি না এবং এতে অংশও নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনা কমানোর দাবি রাখে এবং তেহরানকে আঞ্চলিক নীতিতে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানাচ্ছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, “ইরানকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী ও বিপজ্জনক শক্তি হিসেবে নিজেদের ভূমিকা থেকে সরে আসা উচিত। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তেহরানকে মৌলিক নীতি পরিবর্তন করতে হবে এবং বড় ধরনের সমঝোতায় যেতে হবে।”
এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষামূলক মিশন গঠনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে কয়েকটি দেশ। এ উদ্যোগের কথা প্রথম উল্লেখ করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য এই মিশনে ইউরোপের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশও অংশগ্রহণে আগ্রহী।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযান শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অভিযানে এক হাজারের বেশি ব্যক্তি নিহত এবং প্রায় ১০ হাজার আহত হয়েছেন। ইরানও জবাবে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় কিছু দেশে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।