সরকার পরিকল্পিত শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলতায় সমালোচনার ঝড়
সরকার যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত শিথিল করার পরিকল্পনা করছে, তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্নাতক পাসের ন্যূনতম যোগ্যতা বাতিল করা শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনো রাজনৈতিক নেতারা বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অংশ নিতে পারেন। তবে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিশ্চিত না হলে শিক্ষকদের নেতৃত্ব, বাজেট অনুমোদন এবং উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
২০২৪ সালের মে মাসে নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সভাপতি হওয়ার জন্য এইচএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা আরোপ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার পদোন্নতি দিয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করেছে। বর্তমান সরকারের উচিত এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় শিক্ষিত নেতৃত্ব অপরিহার্য। সভাপতি শিক্ষিত হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও সদস্যদের মূল্যায়ন এবং কার্যকর সমন্বয় করা সহজ হয়। পাশাপাশি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠ্যক্রম পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা জরুরি।
সমাজে শিক্ষিত মানুষের অভাব নেই। তাদের নেতৃত্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকার পদক্ষেপ নিলে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষাক্ষেত্রে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা উচ্চশিক্ষিত। সেক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল না করলে রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সরকার ইতিমধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে ১২ দফা সংস্কারের প্রস্তাব ঘোষণা করেছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে ও দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে যোগ্য সভাপতি ও সদস্য থাকা অপরিহার্য।