নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় চলতি মৌসুমে বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরা সন্তুষ্ট হলেও বাজারদর কমে যাওয়ায় তাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। রমজানের শুরুতে বেগুনের দাম তুলনামূলক বেশি থাকলেও বর্তমানে তা অনেকটাই কমে এসেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, দাম আরও কমে গেলে লোকসানের মুখে পড়তে পারেন তারা। তবে বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে ভালো লাভের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রায়পুরার ২৪টি ইউনিয়নের মধ্যে মির্জাপুর, বাখানগর, ওলীপুরা, রাধানগর, সাহেবনগর ও মরজাল ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি বেগুন চাষ হয়। এ অঞ্চলে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে বেগুনের আবাদ হয়েছে। উৎপাদিত বেগুন স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকেরা সাধারণত বারৈচা, নারায়ণপুর ও জংলী শিবপুর বাজারে তাদের উৎপাদিত বেগুন বিক্রি করেন।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ এলাকায় ডোফা, লাফা ও শিংনাথ জাতের বেগুন বেশি চাষ করা হয়। এসব জাতের ফলন তুলনামূলক বেশি, দেখতে আকর্ষণীয় এবং বাজারে ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়। পাইকারি ব্যবসায়ীরাও মূলত এই জাতের বেগুন কিনতে বেশি আগ্রহ দেখান। স্থানীয় কৃষক রমজান আলী জানান, প্রতি বিঘা জমিতে বেগুন চাষে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে ভালো ফলন হলে এক বিঘা জমি থেকে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করা সম্ভব। এ কারণে অনেক কৃষকই এ ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
তবে বাজারদর কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক কৃষক। কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ বেগুন চার হাজার টাকায় বিক্রি করা গেলেও বর্তমানে দাম নেমে এসেছে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায়। দাম আরও কমে গেলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আরেক কৃষক আহাম্মদ আলী জানান, সাত শতাংশ জমিতে চাষ করে তিনি ইতোমধ্যে চার মণ বেগুন পেয়েছেন এবং সামনে আরও ফলন বাড়বে বলে আশা করছেন।
এদিকে পাইকারি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম জানান, তিনি নিয়মিত রায়পুরা থেকে বেগুন কিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করেন। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বেগুন চাষে প্রধান সমস্যার একটি হলো পোকার আক্রমণ। এটি নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের প্রায়ই কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। তবে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করা গেলে উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব।
রায়পুরা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, কৃষকদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি ব্যবহারে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।