দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। তারা দ্রুত এসব ঘটনার বিচার, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী এক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশতাধিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে হত্যা, ধর্ষণ, মন্দিরে হামলা, লুটপাট, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ এবং আদিবাসীদের বসতবাড়িতে হামলার মতো অভিযোগ রয়েছে।
বক্তারা বলেন, ভোলার তজুমদ্দিনে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এক নারীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া চট্টগ্রামে আকাশ দাস, বগুড়ায় সুনীল বাঁশফোঁড়, কক্সবাজারে ব্যবসায়ী গোপাল পাল, বগুড়ায় শিক্ষক তরুণ রাজভর, যশোরে অরুণ অধিকারী, ময়মনসিংহে চাল ব্যবসায়ী সুশীল চন্দ্র সরকার এবং গাইবান্ধা সদর উপজেলার অমিতাভ চন্দ্র ভট্টাচার্যসহ কয়েকজনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়।
সমাবেশে আরও বলা হয়, কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণপাড়ার কালী গঙ্গাজল শিব মন্দিরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরোহিতসহ চারজন আহত হন। বগুড়ার ধুনটে লক্ষ্মী মন্দিরে অগ্নিসংযোগ, সাতক্ষীরার আশাশুনিতে হামকুড়া কালীমন্দিরে ভাঙচুর, ফেনীতে পারিবারিক মন্দিরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটেছে।
বক্তারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। সমাবেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু কমিশন গঠন এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবিও জানানো হয়। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু ঐক্যমঞ্চ ঘোষিত আট দফা দাবির বাস্তবায়নে সরকারের কাছে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
সমাবেশ শেষে শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে আবার প্রেসক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর। বক্তব্য দেন গণফোরামের সভাপতি ও ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংখ্যালঘু ঐক্যমঞ্চের যুগ্ম সমন্বয়ক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের এম. সুব্রত হালদার, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়, ওয়ার্ল্ড হিন্দু ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ দাস এবং বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক ডা. এম কে রায়।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অগ্রজ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অতুল চন্দ্র মণ্ডল, ঐক্য পরিষদ মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব কৃষ্ণ দাস, মতুয়া মহাসংঘের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদের সভানেত্রী সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য, যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা, ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সঞ্জীব সরকারসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র ও নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও একই দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এনআর