মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে দুই সপ্তাহ পেরিয়ে ১৬তম দিনে পৌঁছেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বিশ্ব তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে ততই তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে উঠছে। যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে স্পষ্টতা না থাকা, জ্বালানির সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির হেবরনে এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই সফল হয়েছে। তার ভাষায়, যুদ্ধের প্রথম পর্যায়েই যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে এগিয়ে গেছে। তিনি এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছেন ‘এপিক ফিউরি’, যা নিয়েও বক্তব্যে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানান।
তবে সমাবেশে উপস্থিত জনতার প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সংযত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, সংঘাতের স্পষ্ট কৌশল বা শেষ লক্ষ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও দ্বিধা দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ইরানের সরকার এখনও ক্ষমতায় রয়েছে এবং দেশটি হরমুজ প্রণালিতে চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়, ফলে এ পথের অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের কাছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমুদ্র মাইন ও ছোট নৌযান রয়েছে, যা ব্যবহার করে তারা এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা বিশ্বের শক্তিশালী নৌবাহিনীর জন্যও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সমালোচকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জনমত তৈরি বা কৌশলগত লক্ষ্য স্পষ্ট করার তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ২০২৮ সালের মার্কিন নির্বাচন ঘিরেও রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নাম সামনে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে তাদের অবস্থান ভবিষ্যতের মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।