দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকার তেঁতুলিয়া গ্রামের ৮৯ বছর বয়সী বৃদ্ধা মমিনা বেগম। জীবিত থাকা সত্ত্বেও সরকারি নথিতে তাঁকে ‘মৃত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে গত তিন বছর ধরে তিনি বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত। একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্বহীন সুপারিশ এবং যথাযথ তদন্ত ছাড়াই সমাজসেবা দপ্তরের এমন সিদ্ধান্তে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটছে এই বৃদ্ধার।
স্থানীয়রা এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। জানা গেছে, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ভাতাভোগীদের তথ্য যাচাই কার্যক্রম শুরু করে। সে সময় জীবিকার তাগিদে মমিনা বেগম ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে তৎকালীন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর বাবলী আরা কোনো খোঁজখবর না নিয়েই তাঁকে ‘মৃত’ উল্লেখ করে পৌর মেয়রের কাছে সুপারিশ পাঠান। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই সমাজসেবা দপ্তর তাঁকে মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত করে বয়স্ক ভাতা বন্ধ করে দেয়।
ঢাকা থেকে ফিরে মমিনা বেগম সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, সরকারি কাগজে তিনি মৃত। এরপর পৌরসভা ও সমাজসেবা দপ্তরে একাধিকবার ধরনা দিলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে বর্তমান প্রশাসনের তদন্তে তিনি জীবিত প্রমাণিত হন এবং পৌর প্রশাসক তাঁর জীবিত থাকার একটি প্রত্যয়নপত্র দেন। তবে সেই প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তাঁর ভাতা চালু হয়নি।
মমিনা বেগমের পুত্রবধূ আমিনা বেগম জানান, তাঁরা অত্যন্ত দরিদ্র। শাশুড়ির ওষুধ ও খাবারের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি এই ভাতাই ছিল তাঁর চিকিৎসার একমাত্র ভরসা। মমিনা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, “আর কয়দিন বাঁচব জানি না। ভাতার টাকাটা পেলে অন্তত ওষুধগুলো কিনে খেতে পারতাম। টাকার অভাবে তাও পারছি না।”
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন জানান, পৌরসভার পাঠানো কাগজের ভিত্তিতেই সার্ভারে তাঁকে মৃত দেখানো হয়েছিল। তবে বিষয়টি এখন সংশোধন করা হয়েছে। নতুন বরাদ্দ এলে পুনরায় তাঁর ভাতা চালু করা হবে।পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তৎকালীন মহিলা কাউন্সিলর বাবলী আরার ভুল সুপারিশের কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত কাউন্সিলরের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।