প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প ও কারখানা স্থাপন করা হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। তিনি সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুর সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুর তার কাছে ব্যক্তিগত ও আবেগের জায়গা। নানি-নানির বাড়ি এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার বহু স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এই আবেগের প্রেক্ষিতে তিনি দায়িত্ব হিসেবে দিনাজপুরের উন্নয়নে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সমাবেশে জেলা প্রশাসক, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি জানান, এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কাজও শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী খাল খননের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “দিনাজপুরের কাহারোল এলাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। অনেক নদী-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট দেখা দিচ্ছে। বর্ষায় হঠাৎ পানি এলে ফসল ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষিকাজে পানি সহজলভ্য হবে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং আর্সেনিক সমস্যা হ্রাস পাবে।
প্রধানমন্ত্রী নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের নারীপ্রধানদের জন্য এই কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা হবে। পাইলট প্রকল্প ইতোমধ্যে ১৫টি এলাকায় চালু হয়েছে, যার মধ্যে দিনাজপুর-৬ আসনও রয়েছে।
সমাজের ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী প্রদানের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের জন্য সরকার ইতোমধ্যে সম্মানীর ব্যবস্থা শুরু করেছে। সমাবেশে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রত্যাশিত উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার সর্বাত্মক কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।