প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উন্নত দেশগুলোকে কোনো জিন বা ভূত গড়ে তোলে নি। দেশ গড়েছে তাদের জনগণ। “যদি তারা পারে, আমরা কেন পারব না? আমরাও পারব,” সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল পুনর্খনন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খননের কাজ উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, দেশের নদী-নালা ও খালগুলো পুনর্খননের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন লক্ষ্য
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খনন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫৩টি জেলায় খনন কার্যক্রম শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল পুনর্খননের ফলে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে। সাহাপাড়া খালের ১২ কিলোমিটার পুনর্খননে ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি সুবিধা পাবেন।
কৃষিভিত্তিক শিল্প ও স্থানীয় কর্মসংস্থান
উত্তরাঞ্চলের কৃষি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে স্থানীয় তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, খালের পাশে সাত হাজার গাছ রোপণ করা হবে এবং চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণ করা হবে। কৃষকদের আয় আগামী কয়েক বছরে দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের আগে কৃষকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের উদ্যোগ ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে নেওয়া হয়েছে। তিনি দেশজুড়ে খাল খননের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে স্থানীয় উদ্যোগ ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও জানান।
অন্যান্য এলাকায় খাল খনন উদ্বোধন
বরিশাল: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম. জহির উদ্দিন স্বপন কুতুবপুর খালের পুনর্খনন উদ্বোধন করেন।
কুমিল্লা: খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল উদ্বোধন করেন।
ফরিদপুর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ভাঙ্গা উপজেলার লক্ষ্মীপুর খাল পুনর্খননের সূচনা করেন।
দিনাজপুরে সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্যরা এবং জেলা-উপজেলার অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা।
প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচিকে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।