শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য নতুন করে আবেদন আহ্বান এবং যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানা যায়, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে একসঙ্গে ১ হাজার ৭১৯টি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। সে সময় অল্প সময়ের মধ্যেই ৩ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সেই তালিকা অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়। তবে ওই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। ব্যাপক সমালোচনার কারণে অর্থ বিভাগ অনুমোদন না দেওয়ায় প্রক্রিয়াটি এগোয়নি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এমপিওভুক্তির কার্যক্রম চূড়ান্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রাপ্ত আবেদনগুলোর পাশাপাশি নতুন আবেদনও গ্রহণ করা হবে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ও পুরোনো সব আবেদন পুনরায় যাচাই করে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলায় কয়েকটি এমপিওবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলো ধাপে ধাপে এমপিওভুক্তির আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান।
সূত্র অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে আবেদন আহ্বান করা হয়। নির্ধারিত সময় ১৪ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে মোট ৩ হাজার ৬১৫টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করে একটি তালিকা তৈরি করা হয়।
তবে এ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। অভিযোগ ওঠে, খুব অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের যাচাই সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তালিকাভুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী নেই। পাশাপাশি এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও সামনে আসে, যেখানে প্রতিষ্ঠানভেদে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের কথা বলা হয়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তালিকাটি নিয়ে পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন করে আবেদন গ্রহণ করে সব আবেদন—পুরোনো ও নতুন—আবারও যাচাই করা হবে। বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত হলে যোগ্যতা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি অংশ হিসেবে মাসিক বেতনের মূল অংশ ও কিছু ভাতা পেয়ে থাকেন। বর্তমানে দেশে মোট এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২২ হাজারের বেশি, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।