রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয় এবং পরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত আরও তিনজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে। যাত্রীদের অধিকাংশই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটিতে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী ছিল। নারী ও শিশুসহ সব আসন পূর্ণ ছিল এবং অতিরিক্ত যাত্রীও বহন করা হচ্ছিল। ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার আগে কয়েকজন যাত্রী নেমে গেলেও বাসটি নদীতে পড়ে গেলে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে অন্তত ৬ থেকে ৭ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের কয়েকজন জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে অনেক শিশু ছিল এবং কিছু যাত্রী কোলে শিশু নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন। দুর্ঘটনার পরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, ঝিনাইদহ, দিনাজপুর ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা। তবে বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিতকরণের কাজ এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।