ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে কারা সংসদে যাচ্ছেন—তা নিয়ে দলীয় ও পেশাজীবী মহলে চলছে জোর আলোচনা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন নারী আইনজীবীর নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন জাকিয়া হূমায়রা তমা, মেহবুবা আক্তার জুই, রুনা লায়লা এবং মিনা বেগম মিনি। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, পেশাগত দক্ষতা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদান-এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
জাকিয়া হূমায়রা তমা সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন এবং দলীয় সংকটকালে তার আইনি লড়াই তাকে এগিয়ে রেখেছে। মেহবুবা আক্তার জুই তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে সংগঠনে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত থেকে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন। অন্যদিকে, রুনা লায়লা মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের নেতৃত্বে রয়েছেন, যা তার প্রার্থিতা আলোচনায় এনেছে। মিনা বেগম মিনি দীর্ঘদিন ধরে নারীর অধিকার এবং সংগঠন পরিচালনায় ভূমিকা রেখে দলের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনগুলো সাধারণ আসনের ফলাফলের আনুপাতিক হারে বণ্টিত হয়। এবারের নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ায় সংরক্ষিত ৫০টি আসনের একটি বড় অংশ তাদের দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দলীয় সংসদীয় বোর্ড মনোনয়ন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, দলীয় ত্যাগ, পেশাগত যোগ্যতা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থাকে প্রধান বিবেচ্য হিসেবে দেখছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে দক্ষ আইনজীবীদের অংশগ্রহণ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া ও নীতিনির্ধারণী আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। আলোচনায় থাকা এসব নারী আইনজীবী মনোনয়ন পেলে সংসদীয় রাজনীতিতে পেশাদারিত্বের নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দলীয় মনোনয়ন বোর্ড আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করবে।