ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা ইতোমধ্যে তৈরি করে রেখেছে পেন্টাগন। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে প্রেসিডেন্টের ওপর নির্ভর করছে।
এ পরিকল্পনা কার্যকর হলে তা চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্ভাব্য এই অভিযান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আকারে না হলেও এতে বিশেষ বাহিনী এবং নিয়মিত পদাতিক সেনাদের অংশগ্রহণ থাকতে পারে। এদিকে, সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চার হাজারের বেশি মার্কিন মেরিন সেনা জাহাজে করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপারদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
পরিকল্পনায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযান দীর্ঘমেয়াদি না হয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, পেন্টাগনকে প্রস্তুত রাখা সরকারের দায়িত্বের অংশ এবং এর অর্থ এই নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ওই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে ইরানে হামলায় এক হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–র নামও এসেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাকসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।