স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনো ঘোষণা না হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রস্তুতির ঘাটতি নেই। সম্ভাব্য এ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে দলটি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে জামায়াত। একই সঙ্গে সংসদের চলমান অধিবেশন এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। এ প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে জয়লাভের লক্ষ্যে দলটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। শুধুমাত্র অংশগ্রহণ নয়, বরং বড় ব্যবধানে বিজয়ের লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধেক প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে, বাকিদের নাম পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। জাতীয় নির্বাচনের পর নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হলেও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে পর্যালোচনাও চলছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ধীরগতিতে এগোচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় তাড়াহুড়ো না করার নীতিতে রয়েছে সংস্থাটি। প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় দলটি তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রার্থীদের তালিকা ইতোমধ্যে কেন্দ্রে জমা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত আইনে সংশোধন আনা হয়েছে অধ্যাদেশের মাধ্যমে। এসব পরিবর্তন সংসদে অনুমোদন পেলে নির্বাচন নির্দলীয় পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে জামায়াত। তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারলে জাতীয় রাজনীতিতেও তাদের প্রভাব বাড়বে।
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে চমকপ্রদ ফলাফল অর্জনের প্রত্যাশা রয়েছে। প্রার্থী মনোনয়নে দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগত অংশগ্রহণ নাকি এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে দলটি। প্রয়োজনে কিছু ক্ষেত্রে কৌশলগত সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে দলটির বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে কাউন্সিলর পদে জোটগত সমঝোতার সুযোগ থাকতে পারে বলে জানা গেছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচন ছিল রাজনৈতিক অবস্থান জানান দেওয়ার ক্ষেত্র, আর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ। সেই লক্ষ্যেই সংগঠনকে আরও সক্রিয় করা হচ্ছে।অন্যদিকে, সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাদের দাবি, দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা হোক। সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপক প্রস্তুতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রস্তুতি কতটা ভোটের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়।