বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পেরেন্টস ফোরাম। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং সামগ্রিক শিক্ষাজীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সংগঠনের সভাপতি এ কে এম আশরাফুল হক এক বিবৃতিতে বলেন, পরীক্ষার আগে সশরীরে ক্লাস সীমিত করা হলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে সামনে ইংরেজি মাধ্যমের ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা এবং সাধারণ ধারার শিক্ষার্থীদের সেশন ফাইনাল থাকায় এই সময়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অভিভাবকরা। বিবৃতিতে অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। করোনাকালীন অভিজ্ঞতার আলোকে বলা হয়েছে, স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন পদ্ধতি কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সরাসরি যোগাযোগ এবং তত্ত্বাবধান ছাড়া শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন বলে মনে করছেন তারা।
এ ছাড়া অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা চালু হলে অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চগতির ইন্টারনেট, ডিভাইস এবং সংশ্লিষ্ট খরচ বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি কর্মজীবী অভিভাবকদের জন্য সন্তানদের অনলাইন ক্লাসে নিয়মিত তদারকি করাও কঠিন হয়ে পড়বে। এই প্রেক্ষাপটে বিকল্প হিসেবে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে পেরেন্টস ফোরাম। প্রথমত, সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন অফলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে। এর পরিবর্তে সপ্তাহে চার দিন সশরীরে ক্লাস চালু রেখে বাকি তিন দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও যাতায়াত—দুই ক্ষেত্রেই সাশ্রয় সম্ভব হয়।
দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনে প্রতিদিনের ক্লাসের সময়সীমা কিছুটা কমিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, শ্রেণিকক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার সীমিত করে প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার স্বার্থে বাস্তবসম্মত ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন অভিভাবকরা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। দ্রুত একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।