দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা মালিবাগ মোড়ের ফুটপাত ও রাস্তার একাংশ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ফলে দীর্ঘদিনের যানজট ও পথচারীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমেছে। তবে এই শৃঙ্খলা কতদিন বজায় থাকবে, তা নিয়ে জনমনে রয়ে গেছে গভীর সংশয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মালিবাগ রেলগেট থেকে মৌচাক অভিমুখী রাস্তার পাশের সেই চিরচেনা জটলা এখন আর নেই। যেখানে আগে হকারদের চৌকি, প্লাস্টিকের ছাউনি আর মালামালের স্তূপে হাঁটার জায়গা ছিল না, সেখানে এখন পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন। রাস্তার ওপর অবৈধ পার্কিং এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানের কারণে সৃষ্ট কৃত্রিম যানজটও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মালিবাগ মোড় রাজধানী ঢাকার অন্যতম একটি সংযোগস্থল। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু প্রভাবশালী চক্রের মদদে রাস্তার ওপর ব্যবসা-বাণিজ্য চলায় সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হতো।
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া:
উচ্ছেদ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে এক পথচারী বলেন, "ফুটপাত পরিষ্কার হওয়ায় এখন শান্তিতে হাঁটতে পারছি। কিন্তু ভয় একটাই—কয়েকদিন পর আবারও আগের মতো দখল হয়ে যাবে না তো? প্রশাসনের উচিত নিয়মিত তদারকি করা।"
কিন্তু চ্যালেঞ্জের জায়গা অন্যটি র্পূব অভিজ্ঞতা বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারও দখলদাররা ফিরে আসে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, দিনের বেলা উচ্ছেদ হলেও রাত নামলেই শুরু হয় পসরা সাজানো। মালিবাগ মোড়ের এই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ধরে রাখা এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রাজধানীর ফুসফুস খ্যাত এই রাস্তাগুলোকে দখলমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। তাঁরা চান, কেবল প্রচারণার জন্য নয় বরং স্থায়ীভাবে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ যেন নির্বিঘ্ন থাকে।