পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবের স্বাভাবিক নিয়মে সামান্য পরিবর্তন ঘটলেও অনেক নারী তা অবহেলা করেন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন বা খাদ্যাভ্যাসের তারতম্যের কারণে এমনটি হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম-এর মতো হরমোনজনিত সমস্যাকেও দায়ী করা হয়।
তবে চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিতভাবে পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়া কখনোই হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। এটি কখনো কখনো জরায়ুর ক্যানসার-এর লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে জরায়ুর ভেতরের স্তরে ক্যানসার হলে মাসিকের স্বাভাবিক চক্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সার্ভিক্যাল ক্যানসারের ক্ষেত্রেও অনিয়মিত রক্তপাত, সহবাসে অস্বস্তি বা ব্যথা এবং দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি পেটফাঁপা, তলপেটে ব্যথা ও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিও এ ধরনের জটিল রোগের উপসর্গ হতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন
১ । স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত রক্তপাত
২ । দীর্ঘদিন ধরে চলা ঋতুস্রাব
৩ । দুই পিরিয়ডের মাঝামাঝি সময়ে রক্তপাত
৪ । মেনোপজের পর আবার হঠাৎ রক্তপাত
চিকিৎসকদের মতে, শুধুমাত্র বয়স্ক নারীরাই জরায়ুর ক্যানসারে আক্রান্ত হন—এ ধারণা সঠিক নয়। বর্তমানে ৩০ বছর বয়সী নারীরাও এই ঝুঁকিতে রয়েছেন।
অনেক নারী পিরিয়ডের ব্যথা বা অতিরিক্ত রক্তপাতকে ‘স্বাভাবিক’ ভেবে এড়িয়ে যান। লজ্জা বা সংকোচের কারণে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না করায় রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়।
কখন পরীক্ষা করাবেন
যদি পিরিয়ডের অনিয়ম তিন মাসের বেশি স্থায়ী হয়, হঠাৎ ওজন কমে যায় বা রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, যত দ্রুত রোগ শনাক্ত করা যাবে, তত দ্রুত ও সহজে চিকিৎসা সম্ভব হবে।