ইরানে ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে জীবিত অবস্থায় আটক করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়ে নগদ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির একটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল এ ঘোষণা দেয়।
চ্যানেলটির সংবাদ উপস্থাপক জানান, নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে খুঁজে পেতে সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। বিশেষ করে কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ যদি ওই ক্রুকে জীবিত অবস্থায় আটক করে পুলিশ বা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেন, তাকে পুরস্কৃত করা হবে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হিসেবে পরিচিত প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী চাহারমহল ও বখতিয়ারি প্রদেশের বাসিন্দাদেরও অনুসন্ধানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
টেলিভিশন সম্প্রচারে এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে গুলি করার আহ্বান জানানো হলেও, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছে—নিখোঁজ পাইলটের সঙ্গে যেন কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার না করা হয়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, আটক ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রদেশের গভর্নর নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে ধরিয়ে দিতে ১০ বিলিয়ন তুমান (প্রায় ৬৬ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার বা ৮১ লাখ টাকার সমপরিমাণ) পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।
এদিকে, এই ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অবস্থানের মধ্যেও তেহরান আলোচনায় অংশ নিতে অনীহা দেখিয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানটি ছিল এফ-১৫ই মডেলের, যেখানে সাধারণত একজন পাইলট ও একজন ওয়েপন সিস্টেম অফিসার থাকেন। তাদের মধ্যে একজনকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে, তবে অন্যজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানগুলো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজ ক্রুর সন্ধানে তৎপরতা চালাচ্ছে।