ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে টানা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের নারী-পুরুষ ও কিশোর মিলিয়ে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গ্রামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় খাপুরা গ্রামের তিন যুবককে আখের রস খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনা ঘটলে উত্তেজনা নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে।
এর জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম দফায় প্রায় দুই ঘণ্টা সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। রাতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও শনিবার ভোর থেকে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। শনিবার সকাল ৭টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একদিকে মুনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দারা, অন্যদিকে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগাড়িয়া গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে বাড়ির ছাদ, দোকানের চালা ও বিভিন্ন আড়াল থেকে ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল ছোড়া হয়। এতে পুরো মুনসুরাবাদ বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্যসহ উভয় পক্ষের শতাধিক সমর্থক আহত হন। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।