দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে বর্তমান সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের সভাপতি তারেক রহমান এর সভাপতিত্বে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে বৈঠকটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন সরকার গঠনের পর এটিই একনেকের প্রথম বৈঠক। এ সভায় প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে কিছু মৌলিক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বিলাসী বা কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পের পরিবর্তে চলমান প্রকল্প দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রায় দুই দশক পর দলটির নেতৃত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে ২০০৬ সালে সর্বশেষ একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমান মেয়াদে প্রথম এই বৈঠকে অনুমোদনের জন্য মোট ১৯টি উন্নয়ন প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে এসব প্রকল্প সভার জন্য প্রস্তুত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৭টি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের। এর মধ্যে আটটি নতুন এবং নয়টি সংশোধিত ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রকল্প। এছাড়া সভার টেবিলে সরাসরি আরও দুটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে—একটি নতুন এবং একটি সংশোধিত। সব মিলিয়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
সাধারণত একনেক সভা আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হলেও এবার তা বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সভায় অনুমোদনের পাশাপাশি পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত আরও ৩৩টি প্রকল্প অবহিতকরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে করতোয়া নদী ব্যবস্থা উন্নয়ন, সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২, চর উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্প, অংশীদারত্বভিত্তিক পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প, তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন, গোপালগঞ্জে দন্ত চিকিৎসা কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন এবং সচিবালয়ে ২১ তলাবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প।
এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন নির্মাণ, জরুরি পানি সরবরাহ, সেনানিবাসে ব্যারাক নির্মাণ, বিভিন্ন মহাসড়ক উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ এবং পার্বত্য এলাকায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও তালিকায় রয়েছে।তালিকার বাইরে আরও দুটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে নগরবাসীর জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১৭০টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এছাড়া শুল্ক বিভাগের আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি সংশোধিত প্রকল্পও উপস্থাপন করা হবে।
অন্যদিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মোট ৩৩টি প্রকল্প সভায় অবহিতকরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।