সরকারের তহবিল চাহিদা বাড়ায় চলতি মাসে আবারও বিশেষ নিলামের মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা ধার নেওয়া হবে।। আগামী ৮ এপ্রিল ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের এই বিশেষ নিলাম আয়োজন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে চলতি মাসেই বিশেষ নিলামের মাধ্যমে মোট ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাজস্ব আয়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া এবং বিভিন্ন কর্মসূচির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারের অর্থের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাত থেকেই অর্থ সংগ্রহকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংক খাতে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। গত মাসের শেষদিকে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আমানত সুবিধায় প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা জমা রেখেছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া বছরের শুরু থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনে আসছে। ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টাকার সরবরাহ আরও বেড়েছে।
সাধারণত প্রতি সপ্তাহের রোববার নিয়মিত ট্রেজারি বিলের নিলাম অনুষ্ঠিত হলেও নির্ধারিত সূচির বাইরে বিশেষ নিলাম আয়োজন সরকারের অতিরিক্ত অর্থের চাহিদার ইঙ্গিত দেয়। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়নেও কোষাগারের ওপর চাপ বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন-এই তিন মাসে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে সরকার মোট ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ৯১ দিন মেয়াদি বিল থেকে ৪৪ হাজার কোটি টাকা, ১৮২ দিন মেয়াদি বিল থেকে ৩৬ হাজার কোটি টাকা এবং ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিল থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে আরও ৩৯ হাজার কোটি টাকা মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এ নিলাম সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে নেওয়া সব অর্থই নিট ঋণ নয়; পূর্বে ইস্যুকৃত বিল ও বন্ডের মেয়াদ শেষ হলে তা নতুন নিলামের মাধ্যমে নবায়ন করা হয়। বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ০৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বিনিয়োগ চাহিদা কম থাকায় নতুন ঋণ গ্রহণে আগ্রহ কমেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ বাড়ছে।