ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের নৌবাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য হরমুজ প্রণালি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরে আসবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের জন্য ইরানের কর্মকর্তারা যে ‘নতুন ব্যবস্থা’ গ্রহণ করতে চলেছেন, তা কার্যকর করার লক্ষ্যে সামরিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে তারা।
এই ঘোষণাটি এসেছে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের পার্লামেন্টারি কমিটিতে খসড়া একটি আইন অনুমোদনের কয়েক দিন পর। ওই আইনে প্রস্তাব করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত শুল্ক আরোপ করা হবে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যাতায়াত শুল্ক ইরানের জাতীয় মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। যেসব দেশ ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, তাদেরও প্রণালির ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
প্রস্তাবনায় আরও অন্তর্ভুক্ত আছে: হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব, সশস্ত্র বাহিনীর কর্তৃত্ব, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয় এবং ওমানের সঙ্গে আইনি সহযোগিতা। গত কয়েক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে বারবার আলটিমেটাম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। না মানলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিতে রাজি না হলে দেশের কিছুই অক্ষত থাকবে না। ট্রাম্পের এ হুমকিতে রাশিয়া, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।