চলতি সপ্তাহে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা পেল টানা তিন দিনের ছুটি
বাৎসরিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল বৈসাবি উৎসব, ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তি এবং ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে স্কুল-কলেজে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এসব ছুটি শেষে ১৫ এপ্রিল থেকে শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম যথারীতি শুরু হবে।
অন্য দিকে স্কুল কলেজ ছুটি পেলেও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির সূচিতে ভিন্নতা দেখা গেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল-এই তিন দিনই ছুটি থাকবে বলে প্রচারিত হলেও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত তালিকায় কেবল ১৪ এপ্রিল ছুটি রয়েছে; ১২ ও ১৩ এপ্রিল ছুটি নেই। তবে ধর্মীয় ও পাঠক্রমগত বিবেচনায় মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১২ ও ১৩ এপ্রিল ছুটি রাখা হয়নি। ফলে যেখানে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিনের ছুটি পাচ্ছে, সেখানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা মাত্র একদিনের ছুটির সুযোগ পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার নির্ধারিত ছুটি অনুযায়ী শুধুমাত্র ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদার জানান, পহেলা বৈশাখ মূলত বাঙালি সংস্কৃতির একটি সর্বজনীন উৎসব, যা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাংস্কৃতিক জীবনের অংশ। তবে অন্যান্য কিছু উৎসব বা আচার-অনুষ্ঠান নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা জাতিগত গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সেগুলো সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা মূলত ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় সব ধরনের সাংস্কৃতিক বা উৎসবভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকে না। এ কারণে তাদের শিক্ষা ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই ছুটির সূচি নির্ধারণ করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা ব্যবস্থার ভিন্ন ধারার কারণে ছুটির তালিকায় পার্থক্য থাকলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নির্ধারণ করা হয়েছে।