আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পেলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–র আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ–এর কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
কবর জিয়ারত শেষে জামায়াত আমির শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি শহীদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন–কে বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেন।
আবু সাঈদের বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আবু সাঈদসহ সব শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা ইনশাআল্লাহ আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ন্যায়, ইনসাফ ও জবাবদিহিতার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।’
তরুণ ও যুবক ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যুবকদের কথা দিচ্ছি—আল্লাহ আমাদের তওফিক দিলে তোমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ আমরা গড়ব ইনশাআল্লাহ। এই সমাজের চাবি ও নেতৃত্ব তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে আমরা পেছন থেকে শক্তি ও সাহস যোগাব। তোমাদের সমর্থন ও ভালোবাসা দিয়ে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা তৈরি হও। আগামী নির্বাচনে তোমাদের ভোটের প্রতিফলন হোক। তোমরা তোমাদের পছন্দমতো ভোট দেবে। কেউ যেন তোমাদের ভোট নিয়ে হেলাফেলা করতে না পারে, সে জন্য জুলাই যোদ্ধা হয়ে তোমাদের আরেকবার লড়তে হবে। জনতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের যুবকরা তা করতে পারবে। আমাদের যুবকরা যে অঙ্গীকার নিয়েছে, তার কাজ কেবল শুরু হয়েছে—এখনো শেষ হয়নি।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির–এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহসহ জামায়াত-শিবিরের নেতারা।
কবর জিয়ারত শেষে সড়কপথে গাইবান্ধার পলাশবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন জামায়াত আমির। সেখানে তিনি একটি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়–এর ইংরেজি বিভাগের ২০১৯–২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।