দেশের বাইরে বসে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করার দিন শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলের জোট প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলম।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড়ের তুলারডাঙ্গা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, “শেখ হাসিনা ভারতে বসে সিদ্ধান্ত নেবে—ওই দিন আর নেই। দেশের বাইরে বসে অন্য কোনো দেশ বা এজেন্ট বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, সেই সময়ও শেষ। এই বিপ্লবী প্রজন্ম ঘুমিয়ে নেই। প্রয়োজন হলে তারা মাঠে নামবে।”
তিনি আরও বলেন, বাইরে বসে অনেক কিছু বলা যায়। সাহস থাকলে তারা বাংলাদেশে এসে দেখাক। দেশের মানুষই দেখিয়ে দেবে তাদের প্রকৃত অবস্থান। প্রশাসন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে যদি ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করা যায় এবং জনগণের সঙ্গে ইনসাফ করা যায়, তাহলে বাংলাদেশকে মুক্ত করা সম্ভব হবে—ইনশাআল্লাহ।
নিজেদের জোটের প্রতি মানুষের সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা যে ১১টি দল আছি, আমরা জুলুম করিনি, চাঁদাবাজি করিনি, মিথ্যা মামলা দিইনি। হয়তো সবাইকে উপকার করতে পারিনি, কিন্তু কারও ক্ষতিও করিনি। এ কারণেই মানুষ আশান্বিত হচ্ছে।”
তিনি বলেন, জনগণ বলছে ভোটের দিন ব্যালটের বিপ্লব দেখা যাবে এবং এতদিনের জুলুমের জবাব এবার ব্যালটের মাধ্যমেই দেওয়া হবে। যদি স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করা যায়, তাহলে শুধু পঞ্চগড়-১ নয়—সারা বাংলাদেশেই ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিএনপির প্রার্থী ও প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, “পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী যদি বলে প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করছে, তাহলে তারা নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। তারা কোনো নিয়ম মানছে না, প্রশাসনকেও তোয়াক্কা করছে না।”
প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা যদি সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে সমানভাবে আইন ও নিয়ম প্রয়োগ করতে না পারেন, তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন। আমরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে চাই এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ চাই।”
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির কিছু নেতা সাধারণ মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তার ভাষায়, “এগুলো স্বৈরাচারী আচরণেরই আলামত। আমরা বলতে চাই—যাদের পাখনা যত দ্রুত গজায়, তাদের পাখনাই তত দ্রুত ভেঙে যায়।”
সভায় বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, সবাইকে মানুষের কাছে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চাইতে হবে। সিদ্ধান্ত নেবে জনগণই। হুমকি ও ভয় দেখিয়ে ভোট বাড়ে না, বরং কমে। এবার মানুষ ইনসাফের পক্ষে থাকবে, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।