নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে সতর্ক করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে—এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ভোটের দিন ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “১২ তারিখে ইনশাআল্লাহ, যারা মুসলমান ভাই আছেন তারা তাহাজ্জুদ পড়ে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে ভোরে ফজরের জামাত ভোটকেন্দ্রের সামনে আদায় করবেন।”
সোমবার বিকেলে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, যারা অন্য ধর্মের ভাই-বোনেরা আছেন, তাদেরও সঙ্গে নিয়ে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়াতে হবে, যাতে সবাই সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু ভোট দিয়ে চলে আসলেই হবে না; ভোট দেওয়ার পরও কেন্দ্রে অবস্থান করে প্রতিটি ভোটের হিসাব নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় উপস্থিত জনতার কাছ থেকে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার নেন।
হাতিয়া উপজেলার প্রধান সমস্যা নদীভাঙন উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্লক বাঁধের মাধ্যমে এলাকার সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমি আপনাদের সমস্যাগুলো লিখে রাখলাম। ক্ষমতায় গেলে নদীভাঙন বন্ধের ব্যবস্থা করা হবে। আপনারা ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষকে জয়যুক্ত করুন।”
তিনি আরও বলেন, ভোটের পর তিনি নিজেই হাতিয়ায় এসে জনগণের সঙ্গে বসে কথা বলবেন। “বিএনপি জনগণের দল। এই দল ক্ষমতায় গেলে দেশের সবচেয়ে বড় ক্ষমতার মালিক হবে জনগণ,”—বলেন তিনি।
মা-বোনদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নে নারীরা গর্বিত অংশীদার। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ নারীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নোয়াখালী-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. মাহবুবের রহমান শামিম–কে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়া হলো শামিমের হাতে। তাকে জয়যুক্ত করে এলাকার উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী মো. মাহবুবের রহমান শামিম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান হাফিজসহ বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতারা।