বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের নদীগুলো ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং এর প্রভাব সরাসরি মানুষের জীবন ও জীবিকায় পড়ছে। তিনি বলেন, “আমি আসার পথে দেখেছি, পদ্মা–গড়াই নদী নয়—মনে হয়েছে যেন মরুভূমি। উত্তরবঙ্গেও দেখেছি, নদীগুলোকে খুন করা হয়েছে। নদী বাঁচলে মাটি বাঁচবে, মাটি বাঁচলে আমার মা বাঁচবে। নদী রক্ষার মধ্য দিয়েই এই অঞ্চলের সংগ্রাম আমরা শুরু করব।”
গতকাল কুষ্টিয়ার আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে জামায়াত আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন কুষ্টিয়ার পাশাপাশি মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহে পৃথক পৃথক জনসভায় অংশ নেন জামায়াতের আমির।
কুষ্টিয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম হওয়া সত্ত্বেও এখানে খাজনার নামে অবৈধ চাঁদাবাজি চলছে। “চালবোঝাই ট্রাক রাজধানীসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। প্রতিটি ট্রাক থেকে বেসরকারিভাবে খাজনা আদায় করা হয়। এতে ট্রাক মালিক ও ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন,” বলেন তিনি।
সরকারি অর্থের হিসাব জনগণের সামনে দেওয়ার অঙ্গীকার
মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের যারা সংসদ সদস্য হবেন, তাদের সম্পদ বাড়তে দেওয়া হবে না। প্রতিবছর সম্পদের হিসাব দিতে হবে। সরকারি তহবিলের প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।”
চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’
চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে ১১ দলীয় জোটের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, “চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখাতে হবে। নির্বাচনী মাঠে কেউ যদি ফ্যাসিবাদের চেহারা নিয়ে আসে, তাকে লাল কার্ড দেখানো হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের জয় হয়েছে। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও ইসলামের জয় হবে।”
ঝিনাইদহে সড়ক সংস্কার ও লুটের টাকা উদ্ধারের ঘোষণা
ঝিনাইদহ ওয়াজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, এলাকার সড়কগুলোর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। “এর একমাত্র কারণ রাষ্ট্রীয় তহবিল লুট। আমরা ক্ষমতায় গেলে যারা জনগণের টাকা চুরি করেছে—দেশে হোক বা বিদেশে—তাদের কাছ থেকে সেই টাকা উদ্ধার করা হবে,” বলেন তিনি।
নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ, সিইসির সঙ্গে বৈঠক
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, “নেকাব খুলে দেওয়া, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।”
গতকাল বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন–এর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব অভিযোগ জানান।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অলিউল্লাহ নোমান।