২০২৬ আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের যাত্রা শেষ হয়েছে বাংলাদেশের। সুপার সিক্স পর্ব থেকেই একরাশ হতাশা নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে জুনিয়র টাইগাররা। তবে এই বিদায়ের পর সামনে এসেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) একটি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, যা ভারতের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করলেও বিপাকে ফেলেছে বাংলাদেশকে।
জুনিয়র টাইগাররা ৬ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়ে। টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে হয়েছে দুই ভিন্ন ভেন্যুতে। ১০ জানুয়ারি মাসভিংগোতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং ১৩ জানুয়ারি হারারেতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। মাসভিংগো থেকে হারারে সড়কপথে যেতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার এই যাতায়াত করতে হয়েছে দলকে।
এই পথ বিমানে পাড়ি দিলে দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হতে পারত। কিন্তু এবার আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী টুর্নামেন্ট চলাকালে অভ্যন্তরীণ বিমানের খরচ বহন করেনি সংস্থাটি। ফলে খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের বাসেই চলাচল করতে হয়েছে, যা ভ্রমণের চাপ আরও বাড়িয়েছে।
এরপর হারারে থেকে প্রায় নয় ঘণ্টার বাসযাত্রা করে দলকে যেতে হয় বুলাওয়েতে। সেখানে ১৭ ও ২০ জানুয়ারি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিজ খরচে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে।
২৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে আবার বাসে করে হারারেতে ফিরতে হয় দলকে। সেখান থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সুপার সিক্স ম্যাচ খেলতে আবার যেতে হয় বুলাওয়েতে। ওই ম্যাচ শেষে আবার হারারেতে ফিরে আসে বাংলাদেশ দল। সেখানে ৩১ জানুয়ারি স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের প্রস্তুতি নেয় তারা। এই টানা যাতায়াতে খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে ব্যাপক বিরক্তি তৈরি হয়।
বাংলাদেশ দলের গেম ডেভেলপমেন্ট কোঅর্ডিনেটর হাবিবুল বাশার বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। একটি পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘এই ভ্রমণ সূচির বিষয়টি আমি তুলে ধরতে চাই। মানুষ এটাকে অজুহাত ভাবলেও। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ছেলেরা যেন বেশি ক্লান্ত না হয়, সে জন্য বোর্ড নিজ পকেট থেকে ফ্লাইটের খরচ দেয়। বাসে গেলে ভ্রমণটা খুবই লম্বা হতো। সরাসরি ফ্লাইটও পাওয়া যাচ্ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, টুর্নামেন্টের মাঝপথে সূচি পরিবর্তন করায় দলকে আরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এই সূচি আমাদের জন্য খুবই অন্যায্য ছিল। শুরুতে বলা হয়েছিল আমরা মাসভিংগোতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে বুলাওয়েতে যাব। পরে হঠাৎ সূচি বদলে যায়। এতে বারবার এদিক-ওদিক যেতে হয়েছে।’
অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্টই বেশ আরামে কাটিয়েছে ভারত। তারা সব ম্যাচ খেলেছে বুলাওয়েতেই। অনুশীলন ও ম্যাচ—সবকিছু একই ভেন্যুতে হওয়ায় ভ্রমণজনিত কোনো চাপই পড়েনি দলটির ওপর। অস্ট্রেলিয়া প্রস্তুতি ও গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলেছে নামিবিয়ার উইন্ডহয়েকে। কেবল শেষ সুপার সিক্স ম্যাচের জন্য তারা হারারেতে যায়। ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্বে হারারেতেই ছিল এবং সুপার সিক্সের আগে চার দিনের বিরতিও পায়। পাকিস্তানও বেশির ভাগ ম্যাচ হারারেতেই খেলেছে, যদিও সুপার সিক্সে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে তাদের যেতে হয়েছে বুলাওয়েতে।
ভারতকে একটি নির্দিষ্ট ভেন্যুতে পুরো টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ দেওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তারা সব ম্যাচ খেলেছিল দুবাইয়ে। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুতেও বড় একটি অংশ খেলেছিল নিউ ইয়র্কে। তারই ধারাবাহিকতা দেখা গেল এবারের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও।