বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নারীরা জামায়াতে ইসলামীর প্রধান হতে পারবেন না। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারটি নেন আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন। এ সময় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নারী প্রার্থীর সংখ্যা জানতে চাইলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একজনও নয়। তিনি বলেন, “অন্য দলও যে খুব বেশি নারী প্রার্থী দিয়েছে, তা আপনি দেখাতে পারবেন না। এটি বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
পাল্টা প্রশ্নে কেন জামায়াত একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি—এর জবাবে তিনি বলেন, “আমি এরইমধ্যে উত্তর দিয়েছি। এটি একদিনে হবে না। তবে আমরা নারীদের অসম্মান করি না।”
নারীরা কখনো জামায়াতের প্রধান হতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নে জামায়াত আমির সরাসরি বলেন, “না, এটা সম্ভব নয়।” ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, আল্লাহ প্রত্যেককে আলাদাভাবে সৃষ্টি করেছেন। “পুরুষরা কখনো সন্তান ধারণ করতে বা বুকের দুধ খাওয়াতে পারে না। এটি আল্লাহর দান। আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, আমরা তা পরিবর্তন করতে পারি না।”
এ সময় আল জাজিরার সাংবাদিক উল্লেখ করেন, গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশে নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন—তাঁরা কি দেশ চালাননি? জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা তাঁদের অসম্মান করছি না। আমাদের এতে কোনো আপত্তি নেই।”
নারী যদি পরিবার পরিচালনা করতে পারে, সন্তান লালন-পালন করতে পারে—তাহলে জামায়াতের প্রধান হতে পারবে না কেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “কিছু দায়িত্ব আছে, যেখানে তারা পালন করতে পারবে না। তাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।”
আল জাজিরার সাংবাদিক যখন বলেন, তিনি সে সীমাবদ্ধতা জানেন না—তখন জামায়াত আমির পাল্টা প্রশ্ন করেন, “একজন মা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর যে দায়িত্ব পালন করেন, আপনি কি তা পারবেন? কখনোই না। আল্লাহ সবকিছু ভালো জানেন।”
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত দেশও নারীদের এই ধরনের নেতৃত্বের পদে উপযুক্ত মনে করে না। “শারীরিক বাস্তবতার কারণেই এটি সম্ভব নয়”—বলেই মন্তব্য করেন তিনি।