জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, এনসিপি অর্থবিত্ত বা অবৈধ টাকার জোরে নয়, বরং নীতির রাজনীতি নিয়ে নির্বাচনে এসেছে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কিংবা ঋণখেলাপিদের টাকায় নির্বাচন করার কোনো আগ্রহ তাদের নেই।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুরের কাউনিয়া আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন–এর নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ভোটের আগমুহূর্তে যারা লুঙ্গি, শাড়ি কিংবা নগদ টাকা নিয়ে ভোট কিনতে আসে, জনগণকে তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তিনি বলেন, “একদিনের সুবিধার বিনিময়ে যদি কেউ দাসত্ব মেনে নেয়, সেই দাসত্বের বোঝা পাঁচ বছর বইতে হয়। আমরা টাকা বা উপহার দিতে পারব না, কিন্তু আপনারা আমাদের জন্য কয়েকদিন সময় দিন—আমরা আপনাদের জন্য পাঁচ বছর কাজ করব।”
বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার নাম উল্লেখ না করে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কিছু প্রার্থী কেবল নির্বাচনের সময়ই এলাকায় দেখা যায়। তাদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নেই, কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা উত্তরাঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখাও নেই।
মাদক ও অপরাধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা মাদকের সঙ্গে যুক্ত, যাদের জীবিকা অবৈধ কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল—তাদের কাছ থেকে সমাজ কখনো ইতিবাচক কিছু প্রত্যাশা করতে পারে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের আস্থাও তাদের কাছ থেকে সরে গেছে।
বিএনপির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বলা হলেও গোপনে ‘না’ ভোটের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই দ্বিমুখী রাজনীতি বন্ধ করে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই।”
জাতীয় পার্টিকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, আসন্ন ভোটের মাধ্যমেই দলটির রাজনৈতিক পরিসমাপ্তি ঘটবে। তার ভাষায়, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সেখানে জাতীয় পার্টি বিপরীত অবস্থানে থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করেছে।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর আমির এটিএম আজম খান।
এর আগে রোববার বিকেলে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে রংপুর অঞ্চলে এনসিপির নির্বাচনী কর্মসূচি শুরু হয়।